উচ্চ ফলনশীল আলতাপেটি লালশাক ৫০ গ্রাম বীজের প্যাকেট – Amaranths Red seeds 50 gm Packet

99.00

+ Fast Delivery

লাল শাক এক প্রকারের শাক বা পাতা সবজি, যার পাতা সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। এই শাক আগে শুধুমাত্র শীতকালে পাওয়া গেলেও বর্তমানে এটি সারাবছরই পাওয়া যায়। এর রং লাল এবং রান্নার পর এটি থেকে লাল রং বের হতে দেখা যায়। এই সবজি ৬”-১২” হয়।

,

Description

লাল শাক চাষ পদ্ধতি।
লাল শাক আমাদের দেশে একটি জনপ্রিয় শাক। এর ইংরেজি নাম Amaranthus Red ও বৈজ্ঞানিক নাম Anaranthus oleraceus.বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই কম বেশি লাল শাকের চাষ হয়। রান্নার পর শাকের রং গাঢ় লাল রঙ হয়। লাল শাক একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার। আমাদের দেশের অনেক জায়গায় এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লাল শাক চাষ ও বাজারজাত করা হচ্ছে। একজন বেকার নারী বা পুরুষ নিজের কর্মসংস্থান ব্যবস্থার জন্য নিজের জমিতে অথবা বর্গা নেওয়া জমিতে লাল শাক চাষ করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
চাষের সময় : সারা বছরই লাল শাক আবাদ করা যায়। তবে ভাদ্র-পৌষ পর্যন্ত বেশী চাষ হয়।
পুষ্টিগুন :
লাল শাকে প্রচুর ভিটামিন এ, বি, সি ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
বাজার সম্ভাবনা : লাল শাক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর তাই ছোট বড় সবাই এই শাক খুব পছন্দ করে। যেহেতু এর চাহিদা সবার কাছেই আছে তাই লাল শাক চাষ করে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করাও সম্ভব। এছাড়া দেশের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত উৎপাদন বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। এক্ষেত্রে বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সহায়তা দিয়ে থাকে। লাল শাক বিদেশে রপ্তানি করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
লাল শাক উৎপাদন কৌশল :
জাত :
আলতাপেটি , রক্ত লাল, বারি লালশাক ১, ললিতা, রক্তরাঙ্গা, পিংকি কুইন, রক্তজবা ও স্থানীয় জাত।
১। আমাদের দেশে বারি লালশাক-১ জাতের শাক চাষ ১৯৯৬ সালে অনুমোদন হয়।
২। এ শাকের পাতার বোটা ও কান্ড নরম ও উজ্জ্বল লাল রঙের হয়।
৩। প্রতি গাছে ১৫ থেকে ২০টি পাতা থাকে।
৪। গাছের উচ্চতা ২৫-৩৫ সে.মি. এবং ওজন ১০-১৫ গ্রাম হয়ে থাকে।
৫। এ শাকের ফুলের রঙ লাল এবং বীজ গোলাকার হয়।
৬। বীজের উপরিভাগ কালো ও কিছুটা লাল দাগ মেশানো থাকে।
চাষের উপযোগী পরিবেশ ও মাটি :
জলবায়ু : সারাবছরই লালশাক চাষ করা যায়। তবে শীতের শুরুতে লাল শাকের ফলন বেশি হয়।
মাটির প্রকৃতি : প্রায় সব ধরণের মাটিতেই সারাবছর চাষ করা হয়। তবে দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি লাল শাক চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো।

জমি তৈরি ও বীজ বপন :
১। লাল শাক চাষের আগে জমি খুব ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে তৈরি করে নিতে হবে। জমি ও মাটির অবস্থা বুঝে ৪-৬টি চাষ ও মই দিতে হবে।
২। লাল শাকের বীজ ছিটিয়ে ও সারিতে বপন করা যায়। তবে সারিতে বীজ বপন করা সুবিধাজনক।
৩। এক সারি থেকে অন্য সারির দূরত্ব ২০ সে.মি. রাখতে হবে।
৪। একটি কাঠি দিয়ে ১৫-২০ সে.মি. গভীর লাইন টেনে সারিতে বীজ বুনে মাটি সমান করে দিতে হবে।
বীজের পরিমাণ:
এক শতকে হেক্টর প্রতি
সারিতে ১০০ গ্রাম ১-১.৫ কেজি
ছিটিয়ে ১৫০ গ্রাম ২-২.৫ কেজি
সার প্রয়োগ :
কৃষকদের মতে গুণগত মানসম্পন্ন ভালো ফলন পেতে হলে লাল শাক চাষের জমিতে যতটুকু সম্ভব জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরণ অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকবে। বাড়িতে গবাদি পশু থাকলে সেখান থেকে গোবর সংগ্রহ করা যাবে। নিজের গবাদি পশু না থাকলে পাড়া-প্রতিবেশি যারা গবাদি পশু পালন করে তাদের কাছ থেকে গোবর সংগ্রহ করা যেতে পারে। এছাড়া ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে আবর্জনা পচা সার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ির আশে-পাশে গর্ত করে সেখানে আবর্জনা, ঝরা পাতা ইত্যাদি স্তুপ করে রেখে আবর্জনা পচা সার তৈরি করা সম্ভব।
সারের পরিমাণ
সার এক শতকে হেক্টর প্রতি
গোবর ৪০ কেজি ১০ টন
ইউরিয়া ৫০০ গ্রাম ১২৫ কেজি
টিএসপি ৩০০ গ্রাম ৭৫ কেজি
এমওপি ৪০০ গ্রাম ১০০ কেজি

চাষের সময় পরিচর্যা :
১। বীজ গজানোর এক সপ্তাহের পর প্রত্যেক সারিতে ৫ সে.মি. পর পর গাছ রেখে বাকি গাছগুলো তুলে ফেলতে হবে।
২। নিড়ানি দিয়ে জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে।
৩। জমির উপরের মাটিতে চটা হলে নিড়ানি দেওয়ার সময় তা ভেঙ্গে দিতে হবে।
উৎপাদিত ফসলের পরিমাণ :
উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ৫০০ কেজি লাল শাক পাওয়া যায়।
লাল শাক শাকের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় শাক। এই শাক আগে শুধুমাত্র শীতকালে পাওয়া গেলেও বর্তমানে এটি সারাবছরই পাওয়া যায়। এর রঙ ও স্বাদের জন্য অন্যসব শাকের থেকে আলাদা। খেতে সুস্বাদু এই লাল শাক পুষ্টিগুণে ভরপুর।

আসুন জেনে নেই লাল শাকের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুন সম্পর্কে:

ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস

লালশাকে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ অন্য শাকের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। ক্যালসিয়াম দেহের জন্য অত্যন্ত দরকারি উপাদান বিশেষ করে দাঁত এবং হাঁড় গঠনে। তাই দাঁতের সুস্থতা, হাঁড় গঠন, গর্ভবতী এবং প্রসূতি মায়েদের দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে এই শাক উপকারী।

দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে
লাল শাকে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ যা চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধির জন্য খুব উপকারী। লাল শাকে বিদ্যমান ভিটামিন এ রেটিনার ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়ে সার্বিকভাবে দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করতে আপনার খাবারেরে মেনুতে রাখুন লাল শাক।

হজম শক্তি বাড়ে
লালশাকে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার বা আঁশ থাকে, যা হজমে সাহায্য করে ফলে স্বাভাবিকভাবেই বদ-হজমের আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে বাওয়েল মুভমেন্ট যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে।

রক্তশূন্যতা দূর করে
রক্তশূন্যতা রোধ করতে লাল শাক খুব উপকারী কারণ এতে আছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। লাল শাক শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই অ্যানিমিয়া রোগীদের জন্য এই শাকটি খাওয়া খুবই উপকারী।

ক্যান্সারকে দূরে রাখে
লাল শাকের এন্টি অক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। তাছাড়া লাল শাকে উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ই, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন সি শরীরে উপস্থিত একাধিক টক্সিক উপাদান দূর করে। সেই সঙ্গে ক্যান্সার কোষ যাতে জন্ম নিতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখে।

কিডনি সমস্যা দূর করে
কিডনির ফাংশন ভালো রাখতে ও কিডনি পরিষ্কার রাখতে লাল শাক খুব ভালো কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত লাল শাক খেলে একদিকে যেমন কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়ে, তেমনি অন্যদিকে রক্তে উপস্থিত একাধিক ক্ষতিকর উপাদান শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

চুল পড়া কমে
চুলের স্বাস্থ্যের জন্য লাল শাক অনেক উপকারী। এটি চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুলে মিনারেল ও পুষ্টি যোগায়।

তাছাড়া লাল শাক রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী করতেও লাল শাকের ভূমিকা অনেক।

Reviews (0)

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “উচ্চ ফলনশীল আলতাপেটি লালশাক ৫০ গ্রাম বীজের প্যাকেট – Amaranths Red seeds 50 gm Packet”

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shopping Cart
Amaranthus Red seeds- SeedsMateউচ্চ ফলনশীল আলতাপেটি লালশাক ৫০ গ্রাম বীজের প্যাকেট – Amaranths Red seeds 50 gm Packet
99.00
Scroll to Top